শিক্ষা কার্যক্রম

মারকাযের চলমান কার্যক্রম

মাদ্রাসার বিভাগীয় কার্যক্রম

‘আত তাখাসসুস ফিল ফিকহি ওয়াল ইফতা’ অর্থাৎ উচ্চতর ফিকহ ও ফাতওয়া গবেষণা বিভাগ। কওমী মাদ্রাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস (স্নাতকোত্তর সমমান) থেকে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ ছাত্ররা এই বিভাগে ভর্তির আবেদন করতে পারে। কোর্সের মেয়াদকাল, নূন্যতম দুই বৎসর।
উন্নত ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষিত উস্তাদদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধায়নে বিভাগটি পরিচালিত হয়। নাযেরা শেষ করে পবিত্র কুরআন হিফজ করা শুরু হয়। সাধারণত একজন শিক্ষার্থী তিন বছরে সম্পূর্ণ কুরআনুল কারীম মুখস্ত করতে সমর্থ্য হয়।
নাযেরা মানে দেখে দেখে সাবলীলভাবে কুরআনুল কারীম পড়তে পারা। হিফজ শুরুর পূর্বে এই বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ হতে হয়। আমাদের প্রচেষ্টা থাকে, দ্রুত সময়ে একজন ছাত্র নাযেরায় সাবলীল ও দক্ষ করে গড়ে তোলা যাতে দ্রুততম সময়ে হিফজ সম্পন্ন করতে পারে।
এ বিভাগের জন্যে, ঐতিহ্যবাহী কওমী শিক্ষাক্রম অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি, সাধারণ শিক্ষার আধুনিক কারিকুলাম অনুসরণে বাংলা, ইংরেজি, অংক, দীনিয়াত, সাধারণ জ্ঞান, ভূগোল, অংকন ইত্যাদি সমন্বিত বাস্তবসম্মত পাঠ্যক্রম প্রস্তুত করা হয়েছে।
সাধারণ শিক্ষিত ভাইদের জন্যে আবশ্যকীয় ফরজ ইলম শেখার একটি সহজসাধ্য ব্যবস্থা। ঈমান-আকায়িদ, মাসায়িল, কুরআন শিক্ষা ও বিশুদ্ধ করা, আরবি ভাষা শিক্ষা, মাসনুন দুয়া ও সুন্নাহর প্রশিক্ষণ ইত্যাদির সমন্বয়ে এই কোর্স।
স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের জন্যে বুনিয়াদী দ্বীন শিক্ষার একটি আয়োজন। এই কোর্সে মকতবের কায়েদা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সুরা মুখস্থ করা, নাযেরা রপ্ত করা, মাসায়িল, হাদিস, দুয়া, সুন্নাহর প্রশিক্ষণ, বুনিয়াদি আকীদা ও তারবিয়াতি দীক্ষা প্রদান করা হয়৷
মারকাযুল উলূম আশ-শারইয়্যাহ ওয়া তারবিয়াতিল মুসলিমীন এর অধীনে অনলাইন ভিত্তিক ফরজে আইন ইলমের নানা দিক নিয়ে বিভিন্ন কোর্স এর আয়োজন করা হয়ে থাকে৷ যেমন, দারসুল ইসলাম বা ইসলাম পরিচিতি, দারসুল ঈমান বা ঈমানের অপরিহার্য বিষয়, দারসুল আকায়িদ বা আকীদার পরিশুদ্ধতা, ফিকহুস সিয়াম ওয়া আদাবুহুহ বা রমাদান এর মাসায়িল ও করণীয়, ফিকহুয যাকাত বা যাকাত সংক্রান্ত বিধান, ফিকহু নিসা বা মহিলাদের অপরিহার্য মাসায়িল, ফিকহুল মুয়ামালাত বা আয় ও লেনদেনের শরয়ী বিধি-বিধান ইত্যাদি।

মারকাযের অন্যান্য কার্যক্রম

সাধারণত প্রতি মাসে এই তারবিয়াতি মাহফিল হয়ে থাকে। মাহফিলগুলোতে দেশের বরেণ্য আলিমগণ তারবিয়াতি ও ইসলাহী আলোচনা করে থাকেন। এজাতীয় ঘরোয়া মাজলিশের গুরুত্ব রয়েছে। কারণ, অনলাইনের মাধ্যমে যে দ্বীন হাসিল হয়, তা যথাযথ নয়। অফলাইনেও আলেমদের মজলিশে অংশগ্রহণ করে দ্বীন শেখাটা জরুরি। এদুটোর সমন্বয় না হলে, অনেক কিছুর ঘাটতি থেকে যায়। বহু ভ্রান্তি ও অশুদ্ধ চিন্তার মিশ্রণ রয়ে যায়।

অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রাপ্ত দ্বীনী ও মাসায়িল সংক্রান্ত প্রায় তিন হাজার প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা হয়েছে। প্রশ্নোত্তর সংরক্ষণ ও গতিশীল করতে www.askmufti.org নামে পৃথক একটি সাইট নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।

হজ্বের সময় ঘনিয়ে এলে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়ে থাকে। অভিজ্ঞ মুফতীগণ হজ্ব গমনেচ্ছুকদেরকে চিত্র অংকন করে, বিস্তারিত দিকনির্দেশনা ও মাসায়িল আলোচনার মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন।
তারবিয়াতি মাহফিলের দিনগুলোতে বাদ আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত, ঊজু, ফরজ গোসল, নামাজ, আযান, ইক্বামাত, কাফন, দাফন ইত্যাদি জরুরী বিষয়ে সুন্নাহের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ে থাকে।
সূচনাকাল থেকেই মারকাযে প্রতি বছরেই সম্পূর্ণ অবৈতনিক ও তিলাওয়াতের হক্ব রক্ষা করে তারাবীহতে খতমে কুরআনের আয়োজন করা হয়ে থাকে।