About us

মারকায পরিচিতি

মারকাযুল উলুম আশ-শারইয়্যাহ ওয়া তারবিয়াতিল মুসলিমীন। ইলমে দ্বীন চর্চা, প্রসার ও সালাফুস সালেহীন এর মীরাস হেফাজত করার সংকল্প নিয়ে নির্মিত একটি প্রতিষ্ঠান। সালাফের মেজাজ ও মানহাজ আমাদের পথ ও পাথেয়।এতদাঞ্চলে মাদ্রাসাগুলো দ্বীন ও দ্বীনি ইলম রক্ষার কেন্দ্র। সাধ্যানুযায়ী জামি’আ/মাদ্রাসাহ/মারকাজ, যে যতটা পারছে দ্বীনের খেদমতে নিজেদের শতভাগ উজাড় করে দিচ্ছে। স্পেন, তুরস্ক, ‘মা ওরাউন নাহর’ অর্থাৎ ইমাম বুখারীর বোখারা, সমরকন্দ ইত্যাদি অঞ্চল যখন মুসলিম শাসক ও ইসলামী শাসনব্যবস্থা হারালো, তখন দ্বীন চর্চা প্রায় বিলীন হয়ে যায়। মুসলিমরা ভুলে যেতে থেকে তাদের মুসলিম পরিচয়বোধ। কোন কোন অঞ্চলে দুয়েকটা ভবন আর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ছাড়া মুসলিম পরিচায়ক আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। কিন্তু ভারত উপমহাদেশের (ভারত পাকিস্তান বাংলাদেশ) মুসলিমরা নিজস্ব ইসলামী শাসন হারানোর আড়াইশ বৎসর পেরিয়ে গেলেও, এই অঞ্চল মুসলিম ও দ্বীন শূন্য হয়ে যায় নি। দীর্ঘ দুশ বছর ইংরেজরা শাসন ও শোষণ করা সত্তেও এই অঞ্চলে ইসলামের প্রদীপ নেভানো সম্ভব হয় নি। বরং দিনেদিনে তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ইসলামী চেতনা ও মুসলিম পরিচয়বোধ জাগ্রত রাখা, ইসলাম চর্চাকে ছড়িয়ে দেয়ার পিছনে কওমী মাদ্রাসাগুলোর ব্যাপক ও সুগভীর ভূমিকা আছে।এই ঐতিহ্যবাহী ধারায় ১৪৩৯ হিজরীতে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘মারকাযুল উলূম আশ-শারইয়্যাহ ওয়া তারবিয়াতিল মুসলিমীন’। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে মারকাযের প্রধান মুরব্বী ও মোহতামিম এর দায়িত্ব পালন করে আসছেন মুফতী ইব্রাহিম হাসান সাহেব দা.বা.। হযরতের নায়েব হিসেবে মারকাযের সার্বিক ব্যবস্থপনা ও দায়িত্বে আছেন মুফতী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।মারকায অর্থ কেন্দ্র৷ মারকাযুল উলূম আশ-শারইয়্যাহ এর অর্থ দাঁড়ায়, দ্বীনী ইলমের কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠানটির নামের দ্বিতীয়াংশ ‘তারবিয়াতিল মুসলিমীন’ অর্থ তামাম দুনিয়ার মুসলিমদের দ্বীনী পরিচর্যা৷ মারকাযের লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম এই নামের মধ্যেই ফুটে উঠছে।

মারকাযুল উলূম আশ-শারইয়্যাহ ওয়া তারবিয়াতিল মুসলিমীন। ইলমে দ্বীনের চর্চা, প্রসার ও সালাফে সালেহীন এর মীরাস হেফাজত করার সংকল্প নিয়ে নির্মিত একটি প্রতিষ্ঠান। সালাফের রুচি ও মেজাজ এবং তরীকা ও মানহাজ আমাদের পথ ও পাথেয়।

এতদাঞ্চলের মাদ্রাসাগুলো দ্বীন ও দ্বীনি ইলম রক্ষার কেন্দ্র। সাধ্যানুযায়ী জামি’আ, মাদরাসাহ বা মারকাজগুলো, যতটা পারছে দ্বীনের খেদমতে নিজেদের শতভাগ উজাড় করে দিচ্ছে। স্পেন, তুরস্ক, ‘মা ওরাউন নাহর’ অর্থাৎ ইমাম বুখারীর বোখারা, সমরকন্দ ইত্যাদি অঞ্চলে মুসলিম শাসক ও ইসলামী শাসনব্যবস্থা হারানোর পর দ্বীন চর্চা প্রায় বিলীন হয়ে যায়। মুসলিমরা ভুলে যেতে থেকে তাদের মুসলিম পরিচয়বোধ। বর্তমানে কোন কোন অঞ্চলে দুয়েকটা ইমারত আর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ছাড়া মুসলিম পরিচায়ক আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। কিন্তু ভারত উপমহাদেশের (ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ) মুসলিমরা নিজস্ব মুসলিম শাসন হারানোর আড়াইশ বছর পেরিয়ে গেলেও, এই অঞ্চল মুসলিম ও দ্বীন শূন্য হয়ে যায়নি। দীর্ঘ দু’শ বছর ইংরেজরা শাসন ও শোষণ করা সত্ত্বেও এই অঞ্চলে ইসলামের প্রদীপ নেভানো সম্ভব হয়নি। বরং দিনেদিনে তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখানকার মানুষের মধ্যে ইসলামী চেতনা ও মুসলিম পরিচয়বোধ জাগ্রত রাখা, ইসলাম চর্চাকে ছড়িয়ে দেয়ার পিছনে কওমী মাদ্রাসাগুলোর ব্যাপক ও সুগভীর ভূমিকা আছে।

এই ঐতিহ্যবাহী ধারায় ১৪৩৯ হিজরীতে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘মারকাযুল উলূম আশ-শারইয়্যাহ ওয়া তারবিয়াতিল মুসলিমীন’। মারকায অর্থ কেন্দ্র৷ মারকাযুল উলূম আশ-শারইয়্যাহ এর অর্থ দাঁড়ায়, দ্বীনী ইলমের কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠানটির নামের দ্বিতীয়াংশ ‘তারবিয়াতিল মুসলিমীন’ অর্থ তামাম দুনিয়ার সর্বস্তরের মুসলিমদের দ্বীনী পরিচর্যা৷ মারকাযের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম এই নামের মধ্যেই অনেকখানি ফুটে উঠেছে।

মারকাযের পরিচালনা

৫ জন বিশিষ্ট আলিমে দ্বীনের সমন্বয়ে গঠিত মজলিসে শূরার তত্ত্বাবধায়নে মারকাযের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। মজলিসে শূরার সদস্যবৃন্দ যথাক্রমে – হযরতুল আল্লাম মাও. হিফযুর রহমান সাহেব দা. বা. (মুহতামিম ও শাইখুল হাদিস, জামি’আ রাহমানিয়া আরাবিয়া), হযরতুল আল্লাম মাও. আব্দুর রাজ্জাক সাহেব দা. বা. (শাইখে সানী, জামি’আ রাহমানিয়া আরাবিয়া), হযরতুল আল্লাম মুফতী ইবরাহীম হাসান দা. বা., হযরতুল আল্লাম মুফতী রিজওয়ানুর রহমান দা. বা. (সিনিয়র মুদাররিস, জামি’আ রাহমানিয়া আরাবিয়া), হযরতুল আল্লাম মুফতী সাইদ আহমাদ দা.বা. (নায়িবে মুফতী , জামি’আ রাহমানিয়া আরাবিয়া ও খতীব, জাপান গার্ডেন সিটি জামে মসজিদ)।

এছাড়াও মজলিসে শূরার অধীনে পৃথক পরিচালনা কমিটি রয়েছে। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে মারকাযের প্রধান মুরব্বী ও মোহতামিম এর দায়িত্ব পালন করে আসছেন মুফতী ইবরাহীম হাসান সাহেব দা.বা.। খতীব, বায়তুল মোয়াজ্জেম জামে মসজিদ। সিনিয়র মুহাদ্দিস, জামি’আ রাহমানিয়া আরাবিয়া। হযরতের নায়েব হিসেবে মারকাযের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার দায়িত্বে আছেন মুফতী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।

হযরত মাওলানা মুফতী ইবরাহীম হাসান দা. বা.

বাংলাদেশে উলামা ও জনসাধারণ সর্বমহলে স্বীকৃত একটি নাম হযরত মাওলানা মুফতী ইবরাহীম হাসান দা. বা.। বাংলাদেশের প্রথিতযশা একজন আলেম। তিনি একাধারে মুহাদ্দিস, মুফাসসির, ইসলামী শিক্ষাবিদ, সফল মুদাররিস, সচেতন ইমাম, খতীব ও দাঈ। মসজিদভিত্তিক তাফসীর মজলিস, হাদীসের দরস, কুরআনের দরস সহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণকে দীনের সঠিক পথে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতিগুলো খুবই ফলপ্রসু ও অন্যান্যদের জন্যে অনুসরণীয়।

মুফতী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ

দাওরায়ে হাদিস (স্নাতকোত্তর) – জামি’আ রাহমানিয়া আরাবিয়া, ঢাকা
আত-তাখাসসুস ফি উলূমিল হাদিস, (হাদীসশাস্ত্রে উচ্চতর গবেষণা)
আত- তাখাসসুস ফি উলূমিত তাফসীর ( তাফসীরশাস্ত্রে উচ্চতর শিক্ষা)
আত- তাখাসসুস ফিল ফিকহি ওয়াল ইফতা (ফিকহ ও ফতোয়াশাস্ত্রে উচ্চতর শিক্ষা)

মারকাযুল উলূম আশ-শারইয়্যাহ এর নায়েবে মোহতামিম (ভাইস প্রিন্সিপাল) এর দায়িত্বে আছেন।

হাফেজ মাওলানা হুমায়ূন আহমেদ
দাওরায়ে হাদিস (স্নাতকোত্তর) – জামি’আ আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ, ঢাকাআত-তাখাসসুস ফিল ফিকহি ওয়াল ইফতা (ফিকহ ও ফতোয়াশাস্ত্রে উচ্চতর শিক্ষা)অত্র প্রতিষ্ঠানের হিফয বিভাগের প্রধান ও নাযিমে দারুল ইক্বামাহ (আবাসন ব্যবস্থাপক)
মুফতী শফিকুল ইসলাম
দাওরায়ে হাদিস (স্নাতকোত্তর) – জামি’আ রাহমানিয়া আরাবিয়া, ঢাকা আত-তাখাসসুস ফি উলূমিল হাদিস, (হাদীসশাস্ত্রে উচ্চতর গবেষণা) আত- তাখাসসুস ফিল ফিকহি ওয়াল ইফতা (ফিকহ ও ফতোয়াশাস্ত্রে উচ্চতর শিক্ষা) পেশ ইমাম- মসজিদে কুবা, মোহাম্মদপুর।অত্র প্রতিষ্ঠানের ফিকহ ফতোয়া বিভাগের সিনিয়র উস্তাদ।
মুফতী সাইদ আহমেদ

দাওরায়ে হাদিস (স্নাতকোত্তর) – জামি’আ কুরআনিয়া, লালবাগ।
আত- তাখাসসুস ফিল ফিকহি ওয়াল ইফতা (ফিকহ ও ফতোয়াশাস্ত্রে উচ্চতর গবেষণা সম্পাদন করেছেন সরাসরি মুফতী তাকি উসমানী হাফি. এর তত্ত্বাবধায়নে, দারুল উলূম করাচী, পাকিস্থান)

ফিকহুল মুয়ামালাতিল মালিয়্যাহ (ইসলামিক ফাইন্যান্স) বিশেষজ্ঞ। জামি’আ রাহমানিয়া আরাবিয়ার ফতোয়া বিভাগের প্রধান দায়িত্বশীল ও মুহাদ্দিস।

অত্র প্রতিষ্ঠানের আধুনিক লেনদেন বিষয়ক প্রশিক্ষক এবং সিনিয়র মুফতী।

মুহতারাম আবু সাইদ
বিবিএ (মালেয়শিয়া) এমবিএ (ঢাকা)অত্র প্রতিষ্ঠানের ইংরেজি শিক্ষক ও কোষাধ্যক্ষ।

মারকাযের কিছু লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

ক) উলামা ও আওয়াম (জনসাধারণ) এর মেলবন্ধন
আমাদের এদেশের ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষাব্যবস্থার ফলে শিক্ষিত শ্রেণির মধ্যে দুটা স্পষ্ট বিভাজন লক্ষ্য করা যায়। ধর্মীয় শিক্ষা ও সাধারণ শিক্ষা। ধর্মীয় শিক্ষায় পারদর্শী যারা, তাদের অনেকেই সাধারণ শিক্ষায় যেমন অনগ্রসর, তেমনি সাধারণ শিক্ষায় বিদ্বান যারা তারা ধর্মীয় শিক্ষায় প্রায় অজ্ঞ। শিক্ষার এই বিভাজনের কারণেই কিনা, সাধারণ শিক্ষিত ও আলেমসমাজের মাঝে বেশ দূরত্ব বিদ্যমান। কাছে থেকেও যেন স্বদেশী মুসলিমরা বহুদূরে বাস করেন। সমন্বয় অথবা উলামায়ে উম্মাহর নৈকট্য লাভ করা, দুটোতেই কোন অদৃশ্য বাধা কাজ করে। যে সমাজ হতে পারত, উভয় শিক্ষায় শিক্ষিতদের সমন্বয়ে সভ্যতা ও আধুনিকতা এবং নৈতিকতা ও ধার্মিকতায় অনন্য, সে সমাজ দুই মেরুকরণের ফলে আদর্শ সুশৃঙ্খল সমাজ হিসেবে নির্মিত হতে পারছে না। এই ঘাটতি ও সংকট, এই দূরত্ব ও ‘আজনবিয়্যত’ দূর করা মারকাযের অন্যতম লক্ষ্য। সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত ভাইরা যেন আলেমদের কাছে আসতে সহজ বোধ করেন, সে ব্যবস্থা করা হয়েছে।

খ) সর্বস্তরের মুসলিমদের জন্যে দ্বীন শেখার ব্যবস্থা করা।
এদেশে কিংবা প্রবাসে, পুরুষ বা নারী, যে কোন বয়সী মুসলিমরা যেন ফরজ পরিমাণ দ্বীনী ইলম অর্জন করতে পারেন সে ব্যবস্থা করা মারকাযের অন্যতম লক্ষ্য। ইতোমধ্যে কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই মহৎ উদ্দেশ্যে পাঠ্যক্রম প্রস্তুত করার কাজ চলছে। ফালিল্লাহিল হামদ।

গ) ইসলামী ব্যক্তিত্ব ও খাদিমে দ্বীন নির্মাণ
ইসলামের প্রচার ও দ্বীন শিক্ষাদানের জন্য উপযুক্ত ও যোগ্য উস্তাদ, হাফেজ, ক্বারী, মু’আল্লিম, মুফতী, মুহাদ্দিস, দা’য়ী, ইমাম, খতীব ও দ্বীনের খাদেম তৈরি করা এবং তাদেরকে উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় খেদমতের উপযোগী করে গড়ে তোলা।

ঘ) হিফাজতে ইলম ও হিফাজতে দ্বীন
মুসলিম মিল্লাতের ঈমান, আকাইদ এবং দ্বীন ও ইসলামের পরিপন্থী নাস্তিক্যবাদী সভ্যতা, কুফর, শিরক, বিদ’আত, ইলহাদ ইত্যাদির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা। আমরে বিল মা’রূফ ও নাহি আনিল মুনকার এর মাধ্যমে শিরক, বিদ’আত ও বিবিধ ফেতনা সমাজ থেকে উৎখাত ও নির্মূল এবং দ্বীন ও দ্বীনের ইলমকে যাবতীয় বিকৃতি থেকে রক্ষা করার জন্য সচেষ্ট থাকা। ইত্যাদি।

মারকায এর সংবাদ

বাংলাদেশে উলামা ও জনসাধারণ সর্বমহলে স্বীকৃত একটি নাম হযরত মাওলানা মুফতী ইবরাহীম হাসান দা. বা.। বাংলাদেশের প্রথিতযশা একজন আলেম। তিনি একাধারে মুহাদ্দিস, মুফাসসির, ইসলামী শিক্ষাবিদ, সফল মুদাররিস, সচেতন ইমাম, খতীব ও দাঈ। মসজিদভিত্তিক তাফসীর মজলিস, হাদীসের দরস, কুরআনের দরস সহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণকে দীনের সঠিক পথে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতিগুলো খুবই ফলপ্রসু ও অন্যান্যদের জন্যে অনুসরণীয়।
জন্ম ও বেড়ে ওঠা
মুফতী ইবরাহীম হাসান দা. বা. ১৯৬৪ সালে চাঁদপুর জেলার মতলব থানাধীন পাঁচানী গ্রামের সরকার বাড়িতে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পরিবার পাঁচানী গ্রামের অভিজাত পরিবার হিসেবে পরিচিত। পিতা জনাব মরহুম মাতলুবুর রহমান সাহেবও অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন। তিনি একজন সাধারণ শিক্ষিত ও সরকারী চাকুরীজীবি হওয়া সত্ত্বেও নিজে দীনের উপর পরিপূর্ণভাবে চলেছেন এবং পরিবারকে সর্বোচ্চ দীনদার বানাবার চেষ্টা করেছেন। ফলে আজ তাঁর চারজন ছেলে সন্তানের সবাই যোগ্য আলেম হিসেবে গড়ে উঠেছেন এবং দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দীনী খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন।

তালীম ও তারবিয়াত

চার বছর বয়সেই মসজিদে সাবাহী মক্তবে কুরআনে মাজীদের পাঠের মাধ্যমে তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয়। সে সময়ে এর পাশাপাশি গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কয়েক বছর পড়াশোনা করেন। ১৯৭২ সালে ঢাকাস্থ মহাখালী হুসাইনিয়া মাদরাসায় হিফজ সম্পন্ন করেন। ১৯৭৮ সালে জামিয়া কোরআনিয়া লালবাগে কিতাব বিভাগের প্রথম জামা‘আত তাইসীরে ভর্তি হন। এখানে উচ্চ মাধ্যমিক জামা‘আত শরহে বেকায়া পর্যন্ত পড়েন। সে সময়ে লালবাগ জামি‘আয় ছিলেন মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ মুহাদ্দিস সাহেব রহ., মাওলানা সালাহুদ্দীন সাহেব রহ. ও মুফতী মনসূরুল হক দা. বা. এর মতো উস্তাদ। যারা ছিলেন নিভৃতচারী, খোদাভীরু ও ছাত্র গড়ার সাধক। এসকল উস্তাদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তিনি এখানে শরহে বেকায়াহ (উচ্চ মাধ্যমিক) পর্যন্ত পড়াশোনা করেন।

১৯৮৪ সালে মুফতী ইবরাহীম হাসান সাহেব করাচীর নিউ টাউন জামি‘আতুল উলুমিল ইসলামিয়াতে গমন করেন। সে সময়ে করাচী নিউ টাউনে উস্তাদ হিসেবে ছিলেন মাওলানা আব্দুর রশীদ নুমানী, মাওলানা হাবীবুল্লাহ মুখতার ও মুফতী ইউসুফ লুধিয়ানবীর মতো খ্যাতিমান মাকবুল আলেমগণ। সেখানে তিনি জালালাইন, মেশকাত (স্নাতক) ও দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স) সম্পন্ন করেন। এরপর সেখানেই মুফতী ওলী হাসান টুংকি ও মুফতী আব্দুস সালাম সাহেবের নিগরানীতে তাঁদের বিশেষ ছাত্র হিসেবে দুই বছরের তাখাসসুস ফিল ইফতা সম্পন্ন করেন।

চলমান কর্মজীবন

মুফতী ইবরাহীম হাসান দা. বা. এর কর্মজীবন শুরু হয় জামি‘আ মাদানিয়া নিউ করাচীতে তাফসীর, হাদীস ও আরবী আদবের গুরুত্বপূর্ণ কিতাবসমূহের দরস দানের মাধ্যমে। সেখানে তিনি দু’ বছর জালালাইন, ত্বহাবী, মুয়াত্তাইন, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ্ এর মতো উঁচু স্তরের কিতাবের দরস দান করেন। এরপর ১৯৯১ সাল মোতাবেক ১৪১১ হি. থেকে অদ্যাবধি ঢাকার ঐতিহ্যবাহী দীনী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়ায় তাদরীসের খেদমত আঞ্জাম দিচ্ছেন। বর্তমানে তিনি জামি‘আর সিনিয়র মুহাদ্দিস ও বিভাগীয় প্রধান [তাফসীর]-এর পদ অলঙ্কৃত করছেন।

খেদমতের বিস্তৃতি

জামি‘আ রাহমানিয়ায় খেদমতের পাশাপাশি তিনি ১৪১৬ হি. থেকে দারুল উলুম মতিঝিলের মুহাদ্দিস হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৪৩২ হিজরীতে মুহাম্মদপুরের তাজমহল রোডস্থ বাইতুল আমান মিনার মসজিদ মাদরাসার মুহতামিমের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর মুবারক খেদমত দ্বারা আরো যেসব প্রতিষ্ঠান উপকৃত হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে মুহাম্মদপুরের আদাবরে মা’হাদু উলুমিল কুরআন, বসিলায় মা’হাদুল বুহুসিল ইসলামিয়া বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত অনেক প্রতিষ্ঠান মুফতী ইবরাহীম হাসান দা. বা. Ñএর সুদক্ষ নিগরানীতে পরিচালিত হচ্ছে।

ইসলাহী সম্পর্ক

মুফতী ইবরাহীম হাসান সাহেব যখন লালবাগে কাফিয়া (মাধ্যমিক) জামা‘আতে পড়েন, তখন থেকেই করাচীর মাওলানা হাকীম আখতার সাহেব এদেশে এলে তাঁর বয়ানে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন। একবছর পরে হাকীম আখতার সাহেব নিজেই ডেকে তাকে বায়আত করান। পরবর্তীতে তিনি করাচী থাকাকালীন সুদীর্ঘ সময়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে হাকীম আখতার সাহেবের মজলিসে অংশগ্রহণ করতেন। হাকীম আখতার সাহেব তাকে অত্যন্ত পছন্দ করতেন। বলতেন, আমার নাতির নাম রাখবো ‘ইবরাহীম হাসান’। তিনি তাকে সাথে নিয়ে মুফতী রশীদ আহমাদ লুধিয়ানবী ও ড. আব্দুল হাই রহ. -এর মতো বড়দের কাছে সফর করেছেন। পরবর্তীতে ইবরাহীম হাসান সাহেব দেশে চলে এলেও হাকীম আখতার সাহেবের সাথে তার পত্র বিনিময় অব্যাহত থাকে। পত্রের মাধ্যমেই হাকীম আখতার সাহেব তাকে লিখিত ইজাযত প্রদান করেন।

বড়দের দু‘আ ও স্বীকৃতি

বাংলাদেশ এবং করাচী উভয় স্থানেই তিনি বড়দের দু‘আ ও স্বীকৃতি পেয়েছেন। নিউটাউন করাচীর মাওলানা হাবীবুল্লাহ মুখতার সাহেব রহ. -এর সাথে তার সম্পর্ক খুবই হৃদ্যতাপূর্ণ ছিলো। তিনি কখনো বাংলাদেশে এলে মুফতী ইবরাহীম হাসান সাহেবকে সফরসঙ্গী হিসেবে রাখতেন। আবরারুল হক রহ. -এর বিশিষ্ট খলীফা, জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়ার প্রধান মুফতী ও শাইখুল হাদীস, মুফতী মনসুরুল হক দা. বা. শিক্ষাজীবন থেকেই ইবরাহীম হাসান সাহেবকে অত্যন্ত সুচারুরূপে তালীম-তারবিয়ত দান করেছেন। শিক্ষাজীবন থেকে কর্মজীবন সবসময়ই মুফতী মনসুরুল হক দা. বা. ইবরাহীম হাসান সাহেবের যোগ্যতার দুআসূচক স্বীকৃতির পাশাপাশি তাকে নিজের একান্ত শাগরেদ হিসেবে প্রকাশ করেছেন।

ওয়ারিসে নবীর পরম দায়িত্ব
একজন নায়েবে নবী হিসেবে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে মুফতী ইবরাহীম হাসান সাহেব আল্লাহর বিশেষ মেহেরবানীতে সবসময়ই সজাগ। এ লক্ষ্যে তিনি জনগণের উপর কুরআন হাদীস থেকে আহরিত দাওয়াতের সকল গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে থাকেন। পাশাপাশি বর্তমানে প্রচলিত দাওয়াত-তাবলীগের সহীহ মেহনতেও মুফতী ইবরাহীম হাসান সাহেব সবসময় অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন। তালীম-তাদরীসের অসংখ্য ব্যস্ততা সত্ত্বেও তিনি এ মেহনতে এক সাল লাগিয়ে এলাকাবাসীকে নিয়ে মাকামী ও বেরুনী মেহনত জোরদার করে যাচ্ছেন । তার এ সকল মেহনতের ফল আজ দীনদার মুসলমানদের মধ্যে সুন্দরভাবে পরিস্ফূট হয়ে আছে।

জনগণের আত্মশুদ্ধি তথা তাযকিয়ায়ে নফসের ক্ষেত্রেও রয়েছে মুফতী ইবরাহীম হাসান সাহেবের সুচারু কার্যক্রম। এক্ষেত্রে তিনি প্রায় দুই যুগ ধরে মসজিদে নিয়মিত সাপ্তাহিক তাফসীর মাজলিস করে আসছেন। কয়েক বছর যাবৎ মাসিক ইসলাহী মাজলিসও চালু রয়েছে। জনগণকে দীনদার বনানোর মসজিদভিত্তিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চালু করেছেন কুরআন ও হাদীস শিক্ষার দরস। এসকল মাজলিসে নিয়মতান্ত্রিক আলোচনার পাশাপাশি থাকে দীনী মাসায়িলের প্রশ্নোত্তর পর্ব।

কিতাব ও প্রকাশনা

মুফতী ইবরাহীম হাসান সাহেবের লিখিত ও সম্পাদিত বেশ কয়েকটি কিতাব রয়েছে। এর মধ্যে ‘সকাল সন্ধার আমল’, ‘সুন্নাহসম্মত দু‘আ ও যিকর’, ‘৫০০ ফতোয়া ও মাসায়িল’, বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শেষোক্ত দু’টি কিতাব প্রকাশ করেছে মা’হাদ প্রকাশনী’, মা’হাদুল বুহুসিল ইসলামিয়া, বসিলা গার্ডেন সিটি, বসিলা, ঢাকা।

উপর্যুক্ত বহুমুখী দীনী কার্যক্রম নিয়ে মুফতী ইবরাহীম হাসান সাহেব নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। নবীওয়ালা তিন দায়িত্ব তা’লীম, তাবলীগ ও তাযকিয়া এসব নিয়েই তার নিরন্তর পথচলা। আখেরাতে প্রাপ্তির আশায় বিরামহীন মুজাহাদা।